পিয়াস মজিদের কবিতা

হ্যাম্পস্টেড রাস্তা আমাকে দেয় ধুলোর ধারণা। যে রাস্তায় ধুলো নেই সেখানেও ধুলো আছে; আজ এখানে পা চালিয়ে মনের বনের বিছানায় মাথা পেতে দিয়েছি তো প্রাগৈতিহাসিক বালির বালিশে। কে আমাকে ছেড়ে গেছে এই আপেলের পথে, অচিন পাতাদের ছায়াতে যে রোদ থাকে, তাতে ভিজতে ভালো লাগে। প্রতিটি …

শাহনাজ নাসরীন: এইসব মাথা ব্যথার দিনে

কে যেন বলেছে আবেগের মধ্যে থার্ডক্লাস আবেগ হলো অভিমান। অথচ অভিমান আমার শিরায় শিরায়। ছোটবেলায় যদিও জানতাম না যে অভিমান এত খারাপ আবেগ, তবু আমি অভিমান লুকাতাম। অভিমান করে নিজেকে বঞ্চিত করতাম খুব। সবাই হইচই করে মাঠে খেলতে যাচ্ছে, আমি মাথাব্যথার ভান করে পড়ে থাকতাম; …

সাদিয়া নাজিবের একগুচ্ছ কবিতা

১. দুটুকরো ক্ষৌমবস্ত্র জড়িয়ে ঊষাকালে ঘড়ায় তুলছ জল কামধেনু দোহন করে বিল্বপত্রে ভরছ অমৃতসুধা পাতার ছাউনি ঘেরা ঠাঁই। তুমি মৃত্তিকাজাত ধূপসঞ্চারী বায়ু চিকুরে মায়াবতী ভাটফুল, আর শতনদী মেখলা অচঞ্চল গ্রীবায় আকাশমুখী বলাকা তোমার পাখনার ওমে জেগে ওঠে চরাচর উনুনের আঁচে আরক্ত পয়োধর। বিজরির উদ্ভাসন মৃত্তিকাময় …

নাইম আহমেদের তিনটি কবিতা

নিজের মরদেহের সাথে এভাবে আর কতদিন, প্রিয় পিনাট স্যালাড? উৎসব আমার সবচেয়ে প্রিয় গার্লফ্রেন্ড ছিল। যাকে তীব্রতর ভালোবেসেও জানানো যায়নি কখনো। হয়নি প্রেম। জীবনভর কেবল, বিষণ্ণতার সাথেই অবৈধ সংসার করে গেলাম। কবিতা, আমাদের সে নিষিদ্ধ নির্বাসনের ফসল। যদিও স্থান, কাল ও পাত্রের কিছু জটিল সমীকরণে, …

স্বপন ভট্টাচার্যের একগুচ্ছ কবিতা

বেআদব জলের নজর বড় বেআদব জলের চোখের মণি ইতিউতি ঘোরে জলের বিজ্ঞান কিছু নীতিহীন ঠেকে রক্ত তার স্থির ও শীতল তালু নিশপিশ করে চোখ খোঁজে সমূহ যাপন। # জলকে বলেছি আমি এবার তো বহে যেতে পারো। শীতের রোদ এরিয়া মার্ক করে নিঃসঙ্গ ফিরে যাচ্ছে রোজ, …

মাহমুদ কামালের একগুচ্ছ কবিতা

যদিও পার্থিব তুমি আমি জানি আর দেখা হবে না তার সঙ্গে তাদের সঙ্গেও তালিকাটি দীর্ঘ চোখের দেখার মাঝে আরও যারা দৃষ্টি-ভ্রমের মতো ক্রমে ক্রমে তারাও অচেনা চেনা জানা না হলেই ভালো ছিল আমি জানি তোমার সঙ্গে আর দেখা হবে না যদিও পার্থিব তুমি তবুও তবুও …

মোহাম্মদ হোসাইনের কবিতা

মুখোশের আড়ালে মানুষেরা বেজায় জোচ্চোর আলোতে ঢেকে রাখে মুখ অন্ধকার পরিধান করে আর শাবল চালায় তারা জোড়া সাকোঁতে যায় গানের তালিম নিতে নিতে ঠাকুর বন্দনা করে আর উন্মুখ হয় কোনো এক সুদিনের অপেক্ষায়!   অযথাই ভিড় করে মানকচু পাতা ঘুম আসেনা চোখে বর্ষা এলেই টের …

মনজু রহমানের পাঁচটি কবিতা

১. কারিগর কাল কালান্তরে উড়ে কবে দেখা হবে কাল আলো সরে আঁধার আসে যেন আদিবাসী কালো মেয়ে, ভাঁজে ভাঁজে ভাঙে মহাকাল খেলা সে অশুভ খেলা, বাজে কল্কির বাঁশি। নেই কোনো গন্তব্য, সামনে বর্ষাকান্ত আকাশ বৃষ্টির দাপটে ঝরে পাহাড়ের ঢালে তার ঘর বন্য পেরেক ঠুকে নৈঃশব্দ্য …

আতিকা হাসানের একগুচ্ছ কবিতা

গোধূলি বুকের ভেতর লুকিয়ে আছে দুরন্ত শৈশবের অর্বাচীন ধূসর বেলা! ইট-পাথরের যাপিত জীবন ছেড়ে কোনো গোধূলিক্ষণে মন চলে যায়ー শান্ত নদীর জলের ধারায়, ক্ষণিক আবেগ জড়ানো ভেজা স্পর্শে দাঁড়িয়ে থাকি স্থির হৃদয় গহীনে ক্রমাগত আছড়ে পড়ে সমর্পণের ঢেউ। কখনো চুলের সিঁথির মতো সরু পথ বেয়ে …

সীমিতা মুখোপাধ‍্যায়ের পাঁচটি কবিতা

ভোর চারটে, দুঃখিত সবই ফুরোয়, মানুষ উবে যায় বাষ্পে আর আমি বদ্ধ ঘরে আনমনে ঠোক্কর খেয়ে চলি আসবাবে আসবাবে, হাত ফসকে পড়ে যায় বই, অপেক্ষারত মাইক্রোওয়েভ অকাতরে ডেকে যায় হারিয়ে-যাওয়া আমায়, দেয়ালে মাথা খুঁড়ি, ছুরি ভিজিয়ে ফেলি নিজেরই রক্তে— আমি লজ্জিত, সংকুচিত! আমি দুঃখিত, আমি …

জরিনা আখতারের একগুচ্ছ কবিতা

অশ্রু তোমার দুচোখ থেকে ঝরে পড়ছে খণ্ড খণ্ড মেঘের পাথর — তাবৎ শুষ্কতা তোমার দুচোখে ঝুলে আছে আর দেখ বিদীর্ণ মৃত্তিকায় খড়-কুটোর অস্তিত্বও নেই কোথাও , সবুজের অস্তিত্ব বিবর্ণ সময়ের চোরাবালিতে ডুবে গেছে , অথচ আমাদের পূর্বসুরিরা তো সবুজেরই আরাধনা করেছেন — আমরা চাই সেই …

কামরুল হাসানের পাঁচটি কবিতা

স্বপ্নতাড়িত যাবে একা স্বপ্নতাড়িত চলে দ্রুত। অবকাশ গ্রহের পাশে অপেক্ষমান বাঘ-রোদ ভীত উড্ডয়নের কলতান বাতাসে ধ্বনিত। লতা-গুল্মময় তাঁর চলা। বৃক্ষে তাঁর পুঁতে রাখা আয়ু। স্বপ্নতাড়িত যাবে একা। চন্দ্রাহত রাতে ভাসে, সফেদ নৌকায় তাঁর পাড়ি অন্তরীক্ষ ঘুরে আবহাওয়ামণ্ডল জুড়ে তীব্র শুভ্রতা, স্বপ্নতাড়িত আছে ঘুমে। এই গৃহে …

সৈকত হাবিবের একগুচ্ছ কণাকবিতা

১. বুদ্ধের ছিল না কোনো ঘরবাড়ি এখন পৃথিবীজুড়ে তাঁর লাখো বাড়ি কোটি কোটি ঘর ২. বিভূতিভূষণ নিজেই নিজের মৃত্যু দেখেছিলেন কারণ তিনি তো জীবন জেনেছিলেন ৩. রুমী নিজেই এক ফোঁটা জলে সমুদ্রসমগ্র তাই আজও চিরপ্রবাহিত ৪ . মানুষ একদিন মঙ্গলে যাবে কাঁধে করে অমঙ্গল বয়ে …

ফেরদৌস নাহার: পৃথিবীর স্তন

আমার বয়স এখন দুহাজার বছর। আমি জেগেই থাকি, ঘুম খুব কম। দুহাজার বছর আগেও নিয়ম করে ঘুম হত বলে মনে হয় না। তখনকার মতো এখনো আমাকে সারারাত জাগিয়ে রাখে। কে যে ভেতরে কড়া নেড়ে ডেকে যায়, ওঠো চাঁদের আলোয় ভেসে যাচ্ছে পৃথিবী, চলো দেখবে চলো! …

অবনি অনার্যের একগুচ্ছ কবিতা

ইন্সটাগ্রামে কোন গাছ নাই বলা হলো, বেশি বেশি গ্রামে ফিরে যাও। তারা গেলো দ্রুতলয়ে ইন্সটাগ্রামে! অথচ এ গ্রামে কোন গাছ নাই, মাছ নাই, নাই মেঠোপথ। এমনকি নাই কোন ডাহুকের সচকিত চোখ। বলা হলো, প্রিয় বুকে গুঁজে রেখো মুখ। তারা মুখ গুঁজে আছে এহ ফেইসবুকে। অথচ …

চরু হকের এক গুচ্ছ কবিতা

সবুজ পাতা জানে সবই আম গাছে খুব মুকুল আসছে এবার গাছে গাছে সবুজ পাতার উঁকি তোমার জন্য সবচে’ নরম পঙক্তিগুলো সাজাবো আজ চোখের সামনে ছবির ভেতর বন্দী খাঁচার পাখিটিকে উড়িয়ে দেবো দিকচেতনায়। রঙের তুলি লেপ্টালেপ্টি কিছু রঙ তো যাবেই মেখে রাজপথের ওই মিছিল প্রান্তে। আমি …

নাহার তৃণা: আষাঢ়ে গপ্পো

১. আষাঢ়ের প্রথম দিন থেকেই আকাশের মুখ ভার। সকাল থেকে একটানা বৃষ্টি হয়ে চলেছে। থামাথামির নাম নেই। এমন বৃষ্টি মাথায় করে কে আসবে চা খেতে! মোড়ের চায়ের দোকানি কদম আলী শেষমেশ একটা বড়সড় দীর্ঘশ্বাস ফেলে চুলা নিভিয়ে কেতলিটা নামিয়ে রাখল। ঠিক তখনই ঘটনাটা ঘটল। আকাশ …

ঋজু রেজওয়ানের তিনটি কবিতা

ফেরা ছুটির পর থেকে আনমনা হাঁটছি— হয়ত কোনো এক প্রেমিক যুগলের হাসির স্ফটিকে বিকেল চৌচির; নয়তো উসখুস কোনো দম্পতির ভসকা আতরের হাওয়া মেখে নিচ্ছে মুখর পার্কের কোণার নিমগাছ। দূরের ঝাউবনে— বাদল বাতাসের শিরশিরানি মিড়ে আনন্দ কাকার একাকিত্ব সুর; রঙ্গনের ঝোপে দু’টি তরুণ প্রাণে কপোল–নাক–ঠোঁটে মাখামাখি …

তান্ইয়া নাহারের কয়েকটি কবিতা

১. ফিউশন কালো একটি বিড়াল- যেভাবে ছায়ার মধ্যে ছায়া হয়ে, সাদা একটি বিড়াল- যেভাবে রোদের মধ্যে রোদ হয়ে, নীল একটি মন যেভাবে পাখির ডানায় পাখি হয়ে- উড়ছে তো উড়ছেই, ভাবছে তো ভাবছেই, দেখছে তো দেখছেই; সেভাবেই, শ্যামা একটি আমি- তোমার মধ্যে তুমি হয়ে, ধীরে ধীরে, …

আফসার খানের এক গুচ্ছ কবিতা

ধূসর সন্ধ্যায় শীত চলে যায় নীল ধূসর ডানায় উত্তরের হিমবাহ মনে হয় কম কীভাবে ক্ষুরের ক্রোধ ধীরে থেমে যায় ও বাতাস অসম্ভব আলিঙ্গন দম। ঠান্ডা অদ্ভুত বাতাস রোদের নীরব দোলনচাঁপার গন্ধ কুয়াশার মতো ভোরের রঙিন ঠোঁট যে মুখাবয়ব হাত ইশারায় ডাকে ভালোবাসা যতো। সন্ধ্যা তারা …

শকুন্তলা চৌধুরী: অবলাকান্তের বিশ্ব ‘দর্শন’ পর্ব-৩

অবলাকান্ত কলম ধরিয়া লিখিলেন,  “পাঠকগণ, আজিকে আমরা ‘বিশ্বায়ন’ লইয়া আলোচনা করিব। আমার বাটির সম্মুখের বহুতল ফ্ল্যাটবাড়িটির বাসিন্দা মিত্রসাহেব — যাঁহার সহিত আমি কচিৎ কদাচিৎ পাড়ার পার্কে মিলিত হইয়া থাকি এবং মিলনকালে যিনি আমাকে কৃপাদৃষ্টিপূর্বক বহুবিধ জ্ঞান প্রদান করিয়া থাকেন — তিনি এই বিষয়ে সম্যক জ্ঞানপ্রাপ্ত …

মাহমুদ হাফিজ-এর ভ্রমণগদ্য: প্রশান্ত পশ্চিমে পুনর্বার

তার্কিশ এয়ারে টি কে সেভেন টু থ্রি ফ্লাইট ঢাকা ছাড়বে রাত দশটা পাঁচে। চেক ইন শেষ সাড়ে নয়টায়। আমি আকাশসমান উদ্বেগ নিয়ে বসে আছি খিলক্ষেত ফ্লাইওভারের দশচক্করের জ্যামে। জীবনের এন্তার উড়ালে জাহাজ ফেল হওয়ার ঘটনা মনে পড়ে না। তা আজ কপালে জুটছে— ভাবনার মধ্যে বিশাল …

কচি রেজার গল্প: আঙুলে হরিণের ঘ্রাণ

চারপাশে বেঁচে থাকার শব্দ। রাস্তায় মানুষের কোলাহল। ভিখিরির হাত। রিকশার জ্যাম। নিরন্তর জীবনসংগ্রাম। এইসব পেরিয়ে রোজ কলেজ যায় সে। একটি কলেজের শিক্ষিকা হিমিকা। মানুষের ইতিহাস শ্রেণিসংগ্রামের ইতিহাস। সমাজবিজ্ঞানের ছাত্রী হিমিকা তা জানে। মাঝে মাঝেই মনে পড়ে উন্মাতাল ভার্সিটি জীবন। মিছিলের দিন। মিছিল-মিটিংয়ে ভরপুর সময়গুলো আজ …

আসমা চৌধুরীর দু’টি কবিতা

আবার যদি যাদের নিয়ে সাঁতার কাটো রোজ তাদের মুখের আদল বদলে যায় দুনিয়াসুদ্ধ সবাই জানে আপন ভিতর থেকে সুবাস কোথায় যায়? আদরগুলো মুঠোয় কাঁদে একা কার জন্য ঘুমের ঘোরেও ভাবো? মিথ্যে দিয়ে যে জামাটি পরো শরীর তাকে কতটুকুই চায়? এই আলোতে আর কি হবে গান? …

আহমেদ নকীবের তিনটি কবিতা

জন্মান্তর  ৭০০ বছর বয়সী গাছের চা পান করবো আর সেই খবর পেয়ে আমার চৈনিক বন্ধু আমাকে জীবিত করার জন্য পৃথিবীতে ফিরে আসছেন বাঁশের তৈরি বাষ্পযানে চড়ে; প্রায় চাঁদের কাছাকাছি চলে গিয়েছিলেন তিনি, ঠিক ততদূর থেকে একটা ইউটার্ন নিয়ে পতপত শব্দ করতে করতে ফিরে আসছেন ছোট-ছোট …

আয়নামহল – মোশতাক আহমদ

“আট কুঠুরী নয় দরজা আঁটা মধ্যে মধ্যে ঝরকা কাঁটা। তার উপরে সদর কোঠা আয়নামহল তায়।“ আমার ঘরে কোনো আয়না রাখিনি। কে আগ বাড়িয়ে নিজের মুখোমুখি হতে চায় বলুন! আয়নায় নিজেকে দেখতে পেলেই নিজের কাছে কত জবাবদিহিতা বেড়ে যেত। বিধাতার মতো নির্ভার থাকা যেত না এমন। …

অশ্বিনী কুমারের দু’টি কবিতা অনুবাদ: নভেরা হোসেন

[ভারতীয় কবি, লেখক ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অশ্বিনী কুমার মুম্বাইয়ের টাটা ইনস্টিটিউট অব সোশ্যাল সায়েন্সেস (টিআইএসএস)-এর একজন জনপ্রিয় ও পরিচিত অধ্যাপক। গীতল ও বিধ্বংসী লেখার শৈলীর জন্য বিখ্যাত এই কবির কবিতা বিভিন্ন ভারতীয় ও বিদেশী ভাষায় অনূদিত হয়েছে এবং তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যসংকলনের মধ্যে রয়েছে “বানারাস অ্যান্ড দ্য …

স্নিগ্ধা বাউলের পাঁচটি কবিতা

দূরাভিলাষী মৃত্যু পৃথিবী মরে যাচ্ছে মরীচিকার ঘ্রাণে সন্ধ্যার হলুদ তারা তীব্র সারস অথবা লালচে শকুন মিলে নিয়েছে গ্লানি তার মরীচিকার ভার; পৃথিবী মরে যাক আমারও আগে সূর্যের মতো ডুবে যাক আমায় একা ফেলে সন্ধ্যার ছাদে নায়াগ্রা ভেবে ভেতরের ধারায় বন্য অরন্য সমস্ত শতবর্ষের বট ছেড়ে …

Back to Top