গল্পের শিল্পকথা
আমার গল্প নিয়ে তুমি যে শিল্পচিত্র আঁকতে চেয়েছিলে
তাতে চন্দ্রের কোনো ছবি থাকবে না
সেকথা আমি তোমাকে জানিয়েছিলাম।
বলেছিলাম, এ আকাশ আমার নয় – তাই তার
সমস্ত বৈভব আর আলোর তালুক, আমাদের দূরত্বের
ছায়া হয়েই থেকে যাক। প্রদর্শিত ভোরের দক্ষিণে
প্রেমের সেতুবন্ধন হোক নদী আর তার বিধ্বস্থ স্রোত।
জানি, স্রোতের রাগিণী তুমি এর আগেও সেরেছো
তোমার বেশ কিছু শ্রেষ্ঠ বিনির্মাণ। জলের বিদ্যুত থেকে
আলো সঞ্চয় করে, সাজিয়েছো পাতার ডিজিটাল প্রিন্ট।
বৃক্ষের একাকী বিস্তারে তোমার প্রসারিত হাত
ছড়িয়েছে বীজের বিন্যাস। প্রজাপতির ডানায় তুমিই
এঁকে রেখেছো, গৌরবের বনবৃত্তান্ত।
আমি জানি, আমার গল্পগুলোও একদা সমান্তরাল
ছিল সবুজের গৌরবময় ইতিহাসের। মুক্তি ভাস্কর্যের
মুখোমুখি দাঁড়িয়ে যে মা নিবেদন করেছিলেন
তার জীবনের সর্বস্ব, আমার বিচূর্ণ গল্পগুলো
ছিল তার সন্তান। এই মাটির সাথে আমার
গল্পের নায়ক-নায়িকারা প্রাসঙ্গিকভাবেই ছিল
যুক্ত। আর লিখিত নদীধ্যান পাঠ করে সঙ্গত
কারণেই হয়ে উঠেছিল জয়নুল-সুলতানের
সুবিশাল উত্তরবাহু। উদগত ভূমির কাছে
তারা ছিল বর্ষার অবনত কুসুম।
আমার গল্পগুলোকে আমি পুষ্পের মায়ায় বাঁচিয়ে
রাখতে চেয়েছিলাম। তুমি সে মায়াকে তোমার
তুলির আঁচড়ে ধরে রাখতে চেয়েছো। তবে এটা
কখনও চাও নি, তোমার ক্যানভাসে ফুটে
থাকুক গল্পপিতার পাঁজরের পটভূমি।
এ সমুদ্র আমার নয়। জেনেও তার গভীরে
সমর্পণ করেছি আমার পাঁজরের উষ্ণতা।
বার বার ভুলে যেতে চেয়েছি, অগণিত মানুষের মুখ।
তোমাকেও বলি –
চন্দ্র, প্রাক্তন প্রেমিকা আমার,
তুমি তার মুখছবি কখনও ই আঁকতে যেও না।
বরং আমাকেই মুছে দিতে দাও
এইসব ক্ষত আর করতালির ধ্বনি
এইসব বিন্যস্ত বিবাগ,গতিপথ
পাল্টে দিয়ে পুনরায় উদ্বাস্তু হয়ে যাই ভিন্ন নগরে।
আমি জানি, নিজ শিল্পকর্মগুলোকে পুড়িয়ে
ফেলতে চেয়েছিলেন মকবুল ফিদা হুসেন
পরিণত বয়সে তাকেও ফিরিয়ে দিয়েছিল
তাঁর জন্মগ্রাম,
আর গ্রহণ করেছিল দূরবাসী মেঘের তাঁবু।
বৃষ্টিরা তাদের তাঁবুর নীচেও আমাকে আশ্রয় দেয়নি।
ভ্রমণের সমাপ্তি শেষে আমিও করেছি না না রকম
যোগ বিয়োগ। হিসেব-নিকেশের সাইরেন আমাকে
বার বারই জানান দিয়েছে,
তবে কী সাম্রাজ্যবাদের পোষ্য হয়েই বেঁচে থাকা
আমার জন্য একান্তই উত্তম ছিল না !
এই লেখাটি সর্বমোট 248 বার পঠিত হয়েছে । আজকে 1 জন লেখাটি পড়েছে ।
বরং আমাকেই মুছে দিতে দাও
এইসব ক্ষত আর করতালির ধ্বনি
এইসব বিন্যস্ত বিবাগ,গতিপথ
পাল্টে দিয়ে পুনরায় উদ্বাস্তু হয়ে যাই ভিন্ন নগরে।
chomotkar !!!